Wednesday, April 22, 2009

চলুন সেন্টমার্টিন্স ঘুরে আসি...

ক-খ-গ

সেই ছোটবেলা থেকেই আমার ঘোরাঘুরির শখ। মন খারাপ হলেই ইচ্ছে হত চলে যাই অনেক দূরে কোথাও। কিন্তু পকেটের হালত সেই ইচ্ছে গুলোকে কান ধরে ফিরিয়ে নিয়ে আসত বাস্তবতার জগতে।
মোটামুটি বলা চলে গত বছর দুয়েক ধরে ছোটাছুটি করি। দেড় থেকে বড়জোর দু মাস হলেই মন আনচান করে।
যা হোক, গতবার মহেশখালী যাবার পর এবার সেন্টমার্টিন্স যাবো বলে ঠিক করি। অনেক আগে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন আর সে সব মনে নেই। নেটে অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেও তেমন একটা ইনফরমেশন পেলামনা, এমনকি কোনো হোটেলের ফোন নম্বর, কোথা থেকে সীট্রাক পাওয়া যাবে তার কোনো তথ্যই কেউ দিতে পারলোনা। অতএব যা আছে কপালে ভেবে বেড়িয়ে পরলাম। তবে আপনাদের যাতে এই অসুবিধে না হয় সে জন্যেই এই পোস্ট লেখা।

যাত্রা শুরু।
ঢাকা থেকে অনেক ভাবেই যাওয়া যায় টেকনাফ, তবে সাধারণ বাস গুলোর মধ্যে ( আমি সাধারণ বাসের কথাই লিখছি কারণ বেশিরভাগের অবস্থা আমার মতই) মডার্ন লাইন / এস. আলম পাবেন। ভাড়া পরবে ৫৬০ টাকা। মডার্ন লাইনের অবস্থা একটু ভাল কারণ ওরা এখনো ৩৬ সিটের বাস ৩৬ সিটই রেখেছে, ৪২ করেনি। রাত ৯টা / ৯:৩০ এর বাসে উঠলে পরদিন ৭:৩০ থেকে ৮:০০ নাগাদ টেকনাফ পৌঁছে যাবেন। বাসে বলে রাখবেন ঈগল/কুতুবদিয়ার ঘাঁটে নামবেন। জাহাজ ঘাট টেকনাফ থেকে ১৮ কিলোমিটার আগে। তাই ভুল করে টেকনাফ শহরে চলে গেলে আবার ফিরে আসতে হবে পেছন দিকে।

ওখানে হাতমুখ ধোয়া আর ফ্রেশ হবার ব্যবস্থা আছে। পরটা আর ডিম ভাজি দিয়ে সকালে নাস্তা মনে হবে যেন অমৃত!

ঢাকা থেকেই ঈগল / কুতুবদিয়ার সিট বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন। ঈগলের ফোন নাম্বার ০১৭১৩১৪৫৫৮৪, ০১১৯০১২৪১২৭। সাধারণতঃ তিন ধরনের টিকেট ওদের। ৬৫০ (নিচ তলা) ৭০০ (দ্বিতীয় তলা) ৭৫০ (এক্সিকিউটিভ ক্লাস। এসির মধ্যে বসে থাকতে হবে)। আমি যতদুর দেখেছি সবাই সিটে গিয়ে ব্যাগ ট্যাগ রেখে সীট্রাকের ডেকে দাঁড়িয়ে নাফ নদী আর সমুদ্র উপভোগ করে।

সীট্রাক ছাড়বে ৯:৩০। সময় মেনেই ঘাট ছেড়ে যাবে। দু পাশের অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে করতে এক সময় চলে আসবে সমুদ্র। মায়াবী নীল জল আপনাকে নিমেষেই নিয়ে যাবে বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। মাথার ওপর দিয়ে সীগালের ওড়াওড়ি, ছোট ছোট মাছ ধরা নৌকো গুলোর এপাশ ওপাশ দোল খেলানো দেখতে দেখতে হঠাৎ চোখে পড়বে ছোট্ট একটা দ্বীপের আবছা উপস্থিতি। সাগর যে কতটা নীল ওখানে সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবেনা.....

সীট্রাকের ভোওও সাইরেন আর পি.এ.এস-এ সারেঙ জানিয়ে দেবে সামনের অদ্ভুত সুন্দর স্থলভাগটি সেন্টমার্টিন্স।

জেটি থেকে নামলেই বাজার, ওপরে ছাউনি দেয়া ভ্যান জাতীয় এক ধরনের বাহনে উঠতে হবে যদি না আপনার এনার্জি থেকে থাকে..ভাড়া নেবে জন-প্রতি ১০টাকা। দামাদামি করতে পারলে ৫ টাকাতেই যাবে। :)

এর পর চলে যান আগে থেকে বুক করে রাখা রিসর্টে। বুক করে না গেলে ভাল কোনো রিসর্টেই রুম পাবেননা। তবে একেবারে সাধারণ হোটেল গুলোর বয়-বেয়ারা "রুম লাগবে? রুম লাগবে?" বলে ডাকা ডাকি করবে, ইচ্ছে হলে দেখে আসতে পারেন। তবে কোনো মতেই ৭০০-৮০০টাকার বেশি এক টাকাও দেবেন না।

কিছু রিসর্টের নাম ও টেলিফোন নম্বর....

ব্লু মেরিন: ০১৮১৯০৬৩৪১৮, ০১৭২২৪৭৩৬১৩, ০১৮১৯০৬৩৪২৫
অবকাশ: ০২৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১,৯৩৫৯২৩০ (ঢাকা থেকে বুকিং দিতে হবে)
প্যাসিফিক রিসর্ট: ০১৭৩২৪৩৪২৬৪ (সেন্টমার্টিন্স), ০১৭১২৬৪৩৬৯৪, ০১৭২০৯৩৯০৯০ (ঢাকা)
শৈবাল: ০১৮১৫০১৪৬৬৪
হোটেল স্বপ্ন প্রবাল : ০১৮১৪২৭৪৪০৯, ০১৭২২৫৪৫৮৭২
(সেন্টমার্টিন্স) ০২৮৬১১৪২৮, ০১৭১১-১১০৯১৯ (ঢাকা)
সমুদ্র বিলাস : ০১৮১৩০১৯৮৩৯ (মং), (কক্সবাজার শাখা হোটেল নিদমহল : ০১৭১১৯৬৯৮৩৩, ০১৮১২৬১১৪২৭, ০১৮১৮১৪৩০১২)
পালিনি রিসর্ট : ০১৭২৭৩৬৮২৮২
সীমানা পেড়িয়ে রিসর্ট : ০১৮১৯০১৮০২৭, ০১৮১৭০৪২০২০ (সেন্টমার্টিন্স ), ০১৮১৯৪৬৬০৫৯, ০১৮১৯৪৭৮৪৩৪, ০১৯১১১২১২৯২, ০১৭১১৩৪৪৪৫১ ( ঢাকা)
নীল দিগন্তে রিসর্ট: ০১৭৩০০৫১০০৪ (সেন্টমার্টিন্স), ০২-৮৬৫২৬৭১, ৮৬৫২৩৭৪, ০১৭৩০০৫১০০৫ (ঢাকা)

ছোট্ট একটা দ্বীপ, ঘুরে দেখতে বেশি সময় লাগবেনা আশাকরি।
জেটী থেকে নামলেই ডান দিকে মাছ ধরতে থাকা জেলেদের দেখা মিলবে। বিশাল বড় সব জাল নিয়ে সারাদিন মাছ ধরতে ব্যাস্ত ওরা।
সাধারনত ছোট ছোট মাছ জালে ধরা পরে, একেকবারে হাজার খানেক টাকা হয়তো জোটে।
তবে ভাগ্য ভাল থাকলে নিচের ছবির দৃশ্যও চোখে পরতে পারে...
দ্বীপের পাথুড়ে অংশটা পেছন দিকে। পেছনের অনেকটা অংশ জুড়েই আছে নারকেল আর কেয়ার ঝোপ। অদ্ভুত সুন্দর লাগবে....
আপাতত এখানেই থাকুক। পরে ইচ্ছে হলে আরো বড় করবো পোস্টটি।

Friday, December 12, 2008

ছুটিতে দেশেই ভ্রমণ

বৃষ্টিভেজা দিনের শেষ হয়েছে অনেক আগেই। শুরু হচ্ছে পর্যটনের মৌসুম। চারদিকে একটু হিম হিম ভাব। সামনে আবার আসছে ছুটিছাটার সুযোগ। পরিবারের পড়ুয়াদের পরীক্ষার পাটও চুকে যাচ্ছে। প্রকৃতির সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের শীর্ষ তালিকার তিন নম্বরে আছে কক্সবাজার। খুব একটা পিছিয়ে নেই সুন্দরবন। আরও আছে বান্দরবান অথবা রাঙামাটি, আছে জাফলং, সুসং দুর্গাপুর, আমাদের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। হারিয়ে যেতে আর এবার বাধা কোথায়? সঙ্গে আছে পর্যটন সংস্থাগুলো।

কার কী আয়োজন
দ্য বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড
এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এম রফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা-সুন্দরবন (কটকা ও টাইগার পয়েন্ট)-ঢাকা, চার দিন চার রাতের প্যাকেজ রয়েছে।খরচ ৮৫০০ টাকা। ফোনঃ ৮৮৫৭৪২৪, ৮৮৩৪৭১৬।

গাইড ট্যুরস
দেশের ভেতরেই গাইড ট্যুরস বিভিন্ন প্যাকেজ ভ্রমণের ব্যবস্থা করছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বান্দরবানের পাহাড়ে নিজস্ব রিসোর্ট ও সুন্দরবনে নিজেদের চারটি নৌযান। যোগাযোগঃ ৯৮৮৬৯৮৩, ৯৮৬২২০৫। ওয়েবসাইট: www.guidetours.com

সাফারি প্লাস
দেশে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ কিংবা সবাই মিলে বনভোজন-সব ধরনের আয়োজনই করে থাকে সাফারি প্লাস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসানুল হক জানান, তাঁদের বর্তমান প্যাকেজ সম্পর্কে-ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, দুই রাত তিন দিন জনপ্রতি ৪৫০০ টাকা। ঢাকা-সুন্দরবন-ঢাকা, চার রাত তিন দিন ৮৫০০ টাকা (শিশুদের জন্য ৩০ শতাংশ ছাড়)। ঢাকা-সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার-ঢাকা, তিন রাত দুই দিন ৩৯০০ টাকা। যোগাযোগঃ ৮৮৫৮৭৩৬, ০১৮১৯২১৮১৫৮।

ডিসকভারি
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো· জহিরুল আলম ভূঁইয়া জানান, মূলত দেশের বাইরে প্যাকেজ ভ্রমণ পরিচালনা করলেও দেশের ভেতরেও তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে-ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, দুই দিন তিন রাত ৫৫৫০ টাকা। ঢাকা-সুন্দরবন-ঢাকা, চার দিন তিন রাত ৮৫০০ টাকা। ঢাকা-সিলেট-ঢাকা, দুই রাত তিন দিন ৪৯৯৯ টাকা। যোগাযোগঃ ৯৮৬৩৩৪০, ০১৭১৩৪৪৪৩৬১।

রিভার অ্যান্ড গ্রিন ট্যুরস
সারা দেশেই বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এ প্রতিষ্ঠানটি প্যাকেজ পরিচালনা করে থাকে। ঈদ ও বড়দিন উপলক্ষে আছে ঢাকা-সুন্দরবন-ঢাকা, চার রাত তিন দিন জনপ্রতি ৮৯০০ টাকা। ঢাকা-সিলেট-ঢাকা, তিন রাত দুই দিন ৩৫০০ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, দুই রাত তিন দিন ৪৫০০ টাকা (অতিরিক্ত ৭৫০ টাকায় কুতুবদিয়া, রামু, হিমছড়ি, ইনানি সৈকতে এবং অতিরিক্ত ১৫০০ টাকায় সেন্ট মার্টিন ঘুরে আসা যাবে এই প্যাকেজে)। ঢাকা-রাঙামটি-ঢাকা, দুই রাত তিন দিন ৪৯০০ টাকা। ফোনঃ ৮৮২৬৭৫৯, ০১৮১৯২২৪৫৯৩।

কেয়ারি ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড
টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনে নিজস্ব নৌযান পরিচালনা করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এর ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান জানান, তাঁদের বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজে গোল্ড ও সিলভার-এই দুই ধরনের পর্যটন সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে প্যাকেজগুলো হচ্ছে-ঢাকা-কক্সবাজার-টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন-ঢাকা, তিন দিন চার রাত ৬৭৫০-৯০০০ টাকা। ঢাকা-সেন্ট মার্টিন-ঢাকা, দুই দিন তিন রাত ৫৩৫০-৬০০০ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন-ঢাকা, দুই দিন তিন রাত ৫৫৫০-৭৪০০ টাকা। ফোনঃ ৮১৫৬২৯৬-৭, ৮১২৫৮৮১, ০১৮১৭০৪৮৫৯৭।

জার্নি প্লাস
এ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ তৌফিক রহমান জানালেন, তাঁদের বর্তমান প্যাকেজগুলো সম্পর্কে-ঢাকা-সুন্দরবন-ঢাকা, চার দিন চার রাত জনপ্রতি ৮৫০০ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা বিভিন্ন প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ পড়বে ৪৫০০-৭৫০০ টাকা পর্যন্ত (অতিরিক্ত ১৫০০ টাকায় সেন্ট মার্টিন ঘুরে আসা যাবে)। ফোনঃ ৮৬২৮৫৭৭, ০১৮১৯২২৭৯০১।

ওয়ানডে বাংলাদেশ
এ সংস্থার কর্ণধার আসাদুজ্জামান জানালেন তাঁদের ভ্রমণ প্যাকেজ বিষয়েঃ ঢাকা-শ্রীমঙ্গল-ঢাকা, এক দিন ১০০০ টাকা। ঢাকা-মাধবকুণ্ড-ঢাকা, এক দিন ১২০০ টাকা। আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা-কেওকারাডং-ঢাকা, ৪০০০ টাকা। সুন্দরবন পাঁচ রাত তিন দিন ৬০০০ ঢাকা।
ফোনঃ ০১১৯৬০৯০৭৭৭, ০১৭১৪২৭২৮৭৬।

এভারগ্রিন ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক
এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম হাফিজুর রহমান ফারুক জানান, দেশের ভেতর তাদের ঈদ ও বড়দিনের প্যাকেজগুলো সম্পর্কে-ঢাকা-কুয়াকাটা-ঢাকা, দুই রাত তিন দিন ৩৯০০ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, দুই রাত তিন দিন ৩৯০০ টাকা। ঢাকা-সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার ঢাকা ৪৯০০ টাকা। ঢাকা-রাঙামাটি-ঢাকা, তিন রাত চার দিন ৩৯০০ টাকা। যোগাযোগঃ রুম ৫০৮ (ইব্রাহিম ম্যানশন) ১১ পুরানা পল্টন, ঢাকা। ফোনঃ ৭১৭০২৮৫, ৭১৭১২১৭, মোবাইলঃ ০১৮১৯২৮৭২৫১, ০১৯২৩৪০৬৩৫৬।

হ্যাভেন টাচ ট্যুরিজম
এ পর্যটন মৌসুমে দলগতভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর বা ভ্রমণের জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে হ্যাভেন টাচ। এ সংস্থার কর্ণধার শাহেদ আহমেদ শ্রাবণ জানান, তাদের বেশির ভাগ প্যাকেজ ভ্রমণই দেশের বাইরে। তবে বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন-ঢাকা, পাঁচ রাত চার দিন ৭৫০০ টাকার একটি প্যাকেজ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের আয়োজন করে থাকে তারা। ফোনঃ ৮৩৫৯২৯৪, ০১৭১১৭৮৯৮৩৭, ০১৫৫২৪৩১৪৪৫।

ভিন্ন জগৎ পর্যটনকেন্দ্র
এ সংস্থার পক্ষে এস এম কামাল জানান, রংপুরে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ভিন্ন জগৎ। যোগাযোগঃ গঞ্জিপুর, রংপুর। ফোনঃ (০৫২১) ৮৯০২০, ৮৯১০৫, ০১৯১২১৩৪০১০।

অবকাশ পর্যটন লিমিটেড
এ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিবলুল আজম কোরেশী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের প্যাকেজ ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। মূলত গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তারা এসব প্যাকেজ পরিচালনা করে থাকে। আর তাই ভ্রমণের মূল্যও নির্ধারিত হয় আলোচনা সাপেক্ষে। অবকাশ পর্যটনের বর্তমান প্যাকেজগুলো হলো-ঢাকা-নিঝুম দ্বীপ-ঢাকা, চার রাত তিন দিন। ঢাকা-সেন্ট মার্টিন-ঢাকা, চার রাত তিন দিন। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, চার রাত তিন দিন। যোগাযোগঃ ১৭ (পুরোনো ২৮০) নিউ ইস্কাটন রোড, সামসউদ্দিন ম্যানশন, (দশম তলা) ঢাকা। ফোনঃ ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১।

আরাফাত সিদ্দিকী
সূত্রঃ প্রথম আলো, ডিসেম্বর ০২, ২০০৮

Hotels

Hotel Sea Crown, Cox's Bazar
Marin Drive, Kolatali new Beach,
Cox's Bazar Bangladesh
Phone: +88-0341-64474

Seagull Hotels Limited
Hotel Motel Zone
Cox's Bazar Beach , Bangladesh, Tel : 0341-62480-91, Fax : 88-0341-64436
E-mail: seagull@agni.com , seagullhotelcox@gmail.com.
www.seagullhotelbd.com
Dhaka Office
White House Hotel, 155 Shantinagar, Dhaka -1217, Bangladesh.
Tel: 88-02-8322973-6, Fax: 88-02-8317726.

Saint Martin Resort, Cox's Bazar
Plot # 10, Block- a, Kalatali Road
Cox's Bazar Bangladesh
Phone: 880341-62862, 880341-64275

Hotel Media,
Hotel Motel Zone, Sea Beach Road Cox bazar
Phone: 0341-62881, 62882, 62883, 62884, 62885
Mobile : 01819-519719, 01711-341164

সুগন্ধা গেষ্ট হাউজ,
মোবাইল- ০১৭১১৭৩৪২০২, ০১৮১৯৮৪৩৫৯৭

উইকিপিডিয়াতে কক্সবাজার

English Wiki বাংলা উইকি

Saturday, December 6, 2008

সেন্ট মার্টিন্স: পর্যটকদের সচেতনতা প্রয়োজন (৬)

দূরন্ত ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:১৯


বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিন্স। এ দ্বীপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে স্বল্প পরিসরে বহু সংখ্যক প্রবাল প্রজাতি দেখা যায়। এছাড়াও এই দ্বীপে অন্যান্য দ্বীপের চেয়ে বেশি প্রজাতির শামুক, ঝিনুক, কড়ি, শৈবাল প্রভৃতি পাওয়া যায়। তবে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ মাত্রাতিরিক্ত সংগ্রহের ফলে বর্তমানে দ্বীপটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য ব্যাহত হচ্ছে।
এ দ্বীপের জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে পর্যটকদের সচেতনতা খুব জরুরী। এজন্য ঘর সাজানোর জন্য শখের বশে প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, কড়ি প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ কেনাকাটা বা সংগ্রহ করা উচিত নয়। সাগরের যে অংশে প্রবাল, শৈবাল, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদির পরিমাণ বেশি, সেখানে সাতার কাটা উচিত নয়। এর ফলে দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতি হয় এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
প্রবাল তৈরী হতে অনেক সময় লাগে। ক্ষেত্রবিশেষে একটি প্রবাল গুচ্ছ পরিপূর্ণ রূপ নিতে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় নেয় অথচ এটি সাগরের তলদেশ থেকে সংগ্রহ করতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এই দীর্ঘ সময়ে গঠিত হওয়া প্রবাল গুচ্ছ মাত্র কয়েক মিনিটে ধ্বংস হয়ে যায়। তাই প্রবাল কেনা থেকে বিরত থাকা এবং সাগরের তলদেশ থেকে প্রবাল আহরণকারীদের প্রতিহত করা উচিত।

সমুদ্র সৈকতে কোনো ধরনের আবর্জনা ফেলা উচিত নয়। সিগারেটের প্যাকেট, পরিত্যক্ত অংশ, নষ্ট ব্যাটারি, লাইটার ও বিস্কিট, চানাচুর প্রভৃতির প্লাস্টিকের মোড়ক যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত। যেহেতু সেন্ট মার্টিন্স একটি দ্বীপ তাই এগুলো সম্ভব হলে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ ত্যাগের সময় সঙ্গে করে নিয়ে মূল ভূখণ্ডে ফেলা উচিত।
প্রাকৃতিক পাথরের আশ্রয়ে প্রবাল গুচ্ছ বৃদ্ধি পেয়ে ও সমুদ্রজাত অন্যান্য পদার্থ বছরের পর বছর জমা হয়ে দ্বীপ গঠিত হয়েছে এবং দ্বীপের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু সাগরের তলদেশ থেকে প্রবাল ও পাথর নির্বিচারে সংগ্রহ করা হতে থাকলে দ্বীপের পরিধি বাড়বে না বরং হ্রাস পাবে। তাই প্রবাল ও পাথর সংরক্ষণ করা এবং দ্বীপের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা সবার দায়িত্ব।
ভাটার সময় শিলার ওপর চলাচল করা ঠিক নয়। প্রবাল, শৈবালসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ পাথুরে শিলার উপর জন্মায়। ফলে ভাটার সময় শিলার উপর চলাচল এদের প্রাকৃতিক বাসস্থান নষ্ট করে। তাই এসব অঞ্চলের পাথরের উপর চলাচল না করে শুধু বালুকাময় সৈকতে চলাচল করা উচিত।
পলিথিন মোড়ক এবং পলিথিন ব্যাগ অপচনশীল পদার্থ যা মাটি ও পানির প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে। এ দ্বীপে পলিথিন শপিং ব্যাগের পরিবর্তে চটের বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত। এ বিষয়ে সরকারের নজর জরুরী।
নৌপথে ভ্রমণের সময় সমুদ্রের পানিকে দূষিত করতে পারে এমন যে কোন ধরনের অপচনশীল আবর্জনা পানিতে ফেলা উচিত নয়। পানির বোতল সমুদ্র তীরে কিংবা পানিতে ফেলা উচিত না।

সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ায় বিঘ্ন ঘটায় এমন ধরনের কিছু করা উচিত নয়। সন্ধ্যার পর কচ্ছপের ডিম পাড়ার সৈকতে চলাচল করা, টর্চ লাইট জ্বালানো, হইচই করা, গান বাজনা করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত।
উপকূলে ভ্রমণ বা চলাচল করার সময় সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখা যেতে পারে। সে সময় নীরবতা পালন করে পেছন থেকে দেখা, কুকুরের আক্রমণ থেকে কচ্ছপকে রক্ষা করা এবং ফ্লাশ ব্যবহার করে কচ্ছপের ছবি তোলা উচিত নয়।
সাগর থেকে উঠে ডিম পাড়ার পর সৈকতে থাকা কচ্ছপের পায়ের ছাপ মোছা উচিত নয়। কেননা এ থেকে গবেষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। কচ্ছপের ডিম হাতে ধরা উচিত নয়। কেননা ডিম জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। কচ্ছপ ভয় পেতে পারে এমন কাজ করা উচিত নয়।
ছেড়াদিয়া দ্বীপ এলাকায় নৌ-ভ্রমণের সময় জীবন্ত প্রবালের উপর নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোট ইত্যাদি নোঙর করা উচিত নয়। জীবন্ত প্রবালের উপর হাটাচলা না করাই ভালো।
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে এসে হইচই, গান-বাজনা বা মাইক বাজিয়ে শব্দ দূষণ করা উচিত নয়। সাগর পাড়ে কোনো বাজি বা পটকা ফোটানো, আগুন জ্বালানো ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের উদ্ভিদ, প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা উচিত।
সেন্ট মাটিন্স দ্বীপে রয়েছে অসংখ্য কাকড়ার সমাহার। এদের বিরক্ত না করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে সাহায্য করা উচিত।
জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই দ্বীপটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয় এরকম যে কোনো ধরনের কাজ না করে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
[তথ্যসূত্র: পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত পুস্তিকা ও ওয়েবসাইট]

Wednesday, December 3, 2008

জাজিরা থেকে সেন্ট মার্টিন্স (৩)

দূরন্ত ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৮


সেন্ট মার্টিন্সের প্রাচীন নাম ছিল জাজিরা। স্থানীয় লোকদের মতে আরব বণিকেরা দিয়েছিল এই নাম। পরবর্তীকালে জাজিরা স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে নারিকেল জিনজিরা বলে খ্যাত হয়ে ওঠে। কিন্তু পরবর্তীকালে ইংরেজরা একে সেন্ট মার্টিন্স বানায় বলে জানা যায়।
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের অধিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের এবং আরাকানের সংস্কৃতির মিল দেখা যায়। দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মিলন হলেও দ্বীপবাসী অত্যন্ত রক্ষণশীল। দ্বীপটির উত্তর দিকের লোকজনের মধ্যে রক্ষণশীলতার বেশি এবং দক্ষিণ দিকে কম।
১৯৮০-এর দিকে দ্বীপের জনসংখ্যা হয় প্রায় ৩০০০ জন। বর্তমানে দ্বীপের জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ হাজার।
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপটি বহু পুরনো। কিন্তু কৃষিকাজ করার জন্য উপযুক্ত জমির অভাবে এবং বন-জঙ্গলে পূর্ণ থাকার কারণে এখানে বহুকাল জনবসতি গড়ে ওঠেনি।
১৮৯০ থেকে ১৯০০ খৃস্টাব্দে ১৩টি পরিবারের প্রায় ৫০-৬০ জন এ দ্বীপে আসে ও দ্বীপে বাড়িঘর করে বসবাস শুরু করে। সেই সময় দ্বীপের প্রধান বাণিজ্য মিয়ানমারের সঙ্গেই ছিল। প্রধান রফতানি পণ্য ছিল নারিকেল, পেয়াজ, শুটকি মাছ, শৈবাল, কচ্ছপের ডিম। আর ধান-চাল ছিল প্রধান আমদানি পণ্য। পরবর্তীকালে দ্বীপের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে।
৭০ দশকের দিক থেকে দ্বীপের অধিবাসীদের মধ্যে সামাজিক পরিবর্তন আসতে থাকে। এ সময় থেকে দ্বীপে মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশের প্রভাব বাড়তে থাকে। বর্তমানে মিয়ানমারের প্রভাব অনেক কমে গেলেও পোশাক, আচার-আচরণ ও ভাষায় এর প্রভাব রয়ে গেছে।
তৎকালীন পাকিস্তান আমলে ৬০ এর দশকের শেষদিকে পর্যন্ত এই দ্বীপে মিয়ানমার থেকে প্রচুর চাল বোঝাই নৌকা আসতো এবং তা সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের মাধ্যমে বাংলাদেশের বদরমোকামে চলে যেতো। ১৯৫৮-এরপর সামরিক শাসনামলে এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দ্বীপবাসী কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় বাণিজ্যিকভাবে মাছ ধরা শুরু হয়। নাইলনের জাল এবং ট্রলারের সংখ্যা বাড়ার ফলে বর্তমানে দ্বীপের মাছ ধরা অনেক বেড়েছে।
তথ্যমতে সেন্ট মার্টিন্সের অধিকাংশ লোক মাছ ধরে। এছাড়াও কিছু ব্যবসায়ী এবং কৃষক রয়েছেন। পর্যটন মৌসুমে হোটেল-রেস্তরাসহ পর্যটকদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতেও প্রচুর লোক কাজ করে। দ্বীপের প্রায় এক হাজারেরও বেশি লোক অস্থায়ীভাবে বাইরে থেকে আসা। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে মাছ ধরার উপযোগী প্রচুর নৌকা আছে। প্রতি নৌকায় ৬-৭ জন করে মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে যায়। সাধারণত তারা যেসব মাছ ধরে সেগুলো হচ্ছে ফোকা মাছ, শিংকাটা মাছ, ছড়ি মাছ, গোয়াইল্লা মাছ, সুন্দরী মাছ, গগমাছ, রাছুড়িং, কৈর মাছ, লালা মাছ, রূপচাদা, বলমাছ, ফিটকালামাছ, চান্দানা, ফাইস্যা, বালিয়ামাছ, লবস্টার, চ্যাবা মাছ, কালো সাইট্যা, পিটকালা, ইলিশ মাছ ইত্যাদি। সেন্ট মার্টিন্সের প্রচুর মানুষ সাগর থেকে প্রবাল, ঝিনুক, কড়ি প্রভৃতি সংগ্রহ করে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে। বর্তমানে এসব কাজে প্রচুর শিশু দেখা যায়।

স্থানীয়ভাবে পেজালা নামে পরিচিত Sea weeds বা অ্যালগি (Algae) এক ধরণের সামুদ্রিক শৈবাল সেন্ট মার্টিন্সে প্রচুর পাওয়া যায়। এগুলো বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে তবে লাল অ্যালগি (Red Algae) বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয়।
অ্যালগির ১৫০টি প্রজাতি মানুষ এবং পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এটি দিয়ে মূল্যবান ওষুধ, আইসক্রিম এবং শ্যাম্পুর উপাদান ইত্যাদি তৈরি করা হয়।
অ্যালগি অত্যন্ত পুষ্টিকর। এর মধ্যে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন এবং আয়োডিন আছে।
সংগ্রহ করার পর এটি রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সেন্ট মার্টিন্সের অ্যালগি বা পেজালা প্রধানত চোরাপথে মায়ানমারে ও থাইল্যান্ডে চলে যায়। দ্বীপের মধ্য-পশ্চিম উপকূলে প্রচুর পেজালা পাওয়া যায়।

সেন্ট মার্টিন্সের প্রায় সব বাড়িতে নারিকেল গাছ আছে। এগুলো থেকে যথেষ্ট আয় হয়। মাছ ধরার জন্য প্রচুর নৌকার প্রয়োজন। দ্বীপবাসী অনেকে নৌকা তৈরি এবং মেরামত করে। দ্বীপটিতে কিছু কৃষি উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানা যায়। সেন্ট মার্টিন্সের অধিবাসীদের অনেকেই মাছ ধরার পাশাপাশি কৃষিকাজ করে থাকে। এখানে সাধারণত আলু, পেয়াজ, তরমুজ, ধান, টমাটো, মরিচ, বেগুন ইত্যাদি হয়। সেন্ট মার্টিন্সে প্রচুর আবাসিক হোটেল আছে। বড় হোটেলগুলোর মালিক বাইরের লোক হলেও অধিবাসীরা ছোট ছোট হোটেল করে রুম ভাড়া দেয়। পর্যটনের মাসে অনেকে নিজেদের থাকার রুমও ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।
সমুদ্র থেকে মাছ ধরার পর সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করার জন্যও প্রচুর লোক কাজ করে। ছোট মাছ পাটিতে বিছিয়ে, পিটকালা মাছ বালুতে বিছিয়ে এবং বড় জাতের মাছ পেট বরাবর ফেড়ে মাচায় শুকানো হয়। এ ছাড়াও দ্বীপবাসী অনেকে মাছ, নারিকেল, পেজালা এবং ঝিনুক ব্যবসা করে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সংগৃহীত তাজা মাছ, শুটকি মাছ, পেজালা এবং নারিকেল দেশের ভেতরে চট্টগ্রাম এবং ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠায়।
[ছবি: লেখকের তোলা]

Tuesday, December 2, 2008

সেন্ট মার্টিন্স - ২

দূরন্ত ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:২৮


বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ। জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দ্বীপটিতে আছে বহু প্রজাতির শৈবাল, শামুক-ঝিনুক এবং কড়ি। এ জন্য গবেষক এবং পর্যটকদের কাছে দ্বীপটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে ডিম পাড়তে আসে বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপ। দ্বীপটিতে স্থাপন করা হচ্ছে মেরিন পার্ক।
২০০২ সালের জানুয়ারিতে সরকার সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপকে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। এ সময় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মেরিন পার্ক প্রতিষ্ঠা ও ইকো টুরিজম উন্নয়ন প্রকল্প চালু করে। এর আওতায় দ্বীপে কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, গাছ কাটা, শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যা, প্রবাল, কচ্ছপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী ধরা, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস বা সৃষ্টিকারী সব রকম কার্যকলাপ, মাটি, পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয় এমন ধরনের কাজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্পের কর্মসূচিতে ছিলো পরিবেশবান্ধব পর্যটন মোটেল নির্মাণ, পরিবেশসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেরিন পার্ক স্থাপন, গাস বোটের মাধ্যমে পর্যটকদের সমুদ্রের তলদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখানো, দ্বীপের পাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য জন্য টাওয়ার স্থাপন, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, জাদুঘর স্থাপন এবং গবেষকের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি। প্রকল্পের কিছু কাজ হলেও এখন প্রকল্পটির কি অবস্থা তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ এ প্রকল্পের ওয়েবসাইট (Click This Link) থেকে - Conservation of Biodiversity, Marine Park Establishment and Eco tourism Development at Saint Martin’s Island. লিংকে ক্লিক করলে তা http://www.stmartinsbd.org/ এই ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। যা এই প্রকল্পের ওয়েবসাইট নয়।

সেন্ট মার্টিন্সকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে এ আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সেন্ট মার্টিন্সের পরিবেশ অবনতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে পর্যটকদের দেখার মতো কিছুই থাকবে না।
সেন্ট মার্টিন্স ঘুরে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পর্যটক প্রতিদিন দ্বীপটি দেখার জন্য আসছেন। পর্যটকরা নিজেদের উচ্ছিষ্ট দ্রব্য এবং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলছেন। এছাড়াও দ্বীপবাসী লোকজনের বিভিন্ন পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের ফলে দ্বীপটির পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে।
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বেশ কিছু মাছ প্রক্রিয়াজাত করার প্রতিষ্ঠান আছে। প্রক্রিয়াজাত করার পর মাছের বর্জ্যগুলো যেখানে-সেখানে ফেলা হয়। এর ফলে দ্বীপের বিভিন্ন অংশে পুতিগন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বীপবাসীর প্রধান ব্যবসা মাছ ধরা। প্রতিদিন শত শত জেলে নৌকা মাছ ধরার জন্য সাগরে যায়। মাছ ধরা জালে দ্বীপের নুড়িপাথর ব্যবহার করা হয়। জালে ব্যবহৃত নুড়িপাথরগুলো প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর হারিয়ে যায় বা পরিবর্তন করতে হয়। এভাবে দ্বীপের পাথর ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে বলে জানা যায়। এর ফলে দ্বীপের ক্ষয়সাধন বেড়ে যাচ্ছে এবং দ্বীপ ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে।
দ্বীপবাসীর জ্বালানি চাহিদা মেটানো হয় দ্বীপের দক্ষিণ দিকের প্রাকৃতিক গাছপালা দিয়ে। জ্বালানির প্রয়োজনে স্থানীয়রা দ্বীপের দক্ষিণ দিক থেকে কেয়া ও কেওড়া বন কেটে নিয়ে আসে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় তারা প্রথমে ঝোপে আগুন জ্বালায়। তারপর তা অর্ধপোড়া অবস্থায় কেটে নিয়ে আসে। এভাবে গাছ কাটার ফলে দ্বীপের প্রাকৃতিক গাছপালার প্রচুর ক্ষতি হয়।

স্থানীয় কয়েকটি হোটেলের পক্ষ থেকে সামনের সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ দ্বীপটির পরিবেশ নজরদারি করার জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অবতরণের সময় পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা এবং মাছের বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা বন্ধ করার জন্য স্থানীয় বা জাতীয় কোনো পর্যায় থেকেই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়াও দ্বীপটি সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় হোটেলগুলো বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে তেল এনে জেনারেটর চালায়। সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি ব্যবহার করলে হোটেলগুলোর অর্থের সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও রক্ষা হতো।
[ছবি: লেখক]